History

ঈদে মিলাদুন্নবী কি-ইতিহাস হাদিস গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ঈদে মিলাদুন্নবী কি-ইতিহাস হাদিস গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ইয়া আল্লাহু                                                             ইয়া রহমানু                                                    ইয়া রাহিম

হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) হলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তির দূত। তিনি আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিত কোন কাজ করেন না।যারা আল্লাহ ও তাঁর হাবিবকে বিশ্বাস করে তাদের প্রতি ঈমান আনবে আল্লাহ হাবিব তাদের জন্য সাহায্যকারী হবেন এবং তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। যারা আল্লাহর হাবিব কে বিশ্বাস করে এবং তাকে অনুসরণ করে এবাদত বন্দেগী করতে সক্ষম হয়েছে তাদের মাঝে রাসূল (সাঃ) এর এস্ক, মোহাব্বত ,প্রেম ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে ।তারা আশেকে রাসুলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকৃত মুমিন পরিণত হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,তার রাস্তায় জান মাল উৎসর্গ করলে আল্লাহ তার পরিবর্তে জান্নাত দান করবেন। আল্লাহর কি জানমালের প্রয়োজন আছে? যদি না থাকে তাহলে তিনি তাঁর বান্দার কাছ থেকে গ্রহণ করতে চান কেন? মূলত আল্লাহ সামাদ, কারো মুখাপেক্ষী নয়। তিনি জানমালের দ্বারা বান্দার অন্তরের ব্যবস্থা অর্থাৎ ঈমান পরিমাপ করতে চান। রাসূল (সাঃ) হলেন উম্মতের কান্ডারী। যে যতটুকু ঈমানের বলে বলিয়ান রাসূল (সাঃ) তার জন্য ততটুকু মুক্তির রাস্তা উন্মোচন করবেন।

আজকে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী কি-ইতিহাস হাদিস গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে জানবো।

আজকের পরীচ্ছেদসমূহ

  • ঈদে মিলাদুন্নবী কি
  • ঈদে মিলাদুন্নবীর ইতিহাস গুরুত্ব ও তাৎপর্য
  • ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে হাদিস
  • ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে আলোচনা

ঈদে মিলাদুন্নবী কি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম হযরত রাসূল (সাঃ) এর জন্মের খুশির দিন। আরবি ঈদ অর্থ খুশি এবং মিলাদুন্নবী অর্থ রাসুলের জন্মদিন অর্থাৎ এর পূর্ণাঙ্গ অর্থ হল রাসুলের জন্মের খুশি।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী আমরা যখন পালন করি তখন বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে পালন করে।অনেক দেশের ধুমধামের সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করে।আমাদের দেশেও সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করে। এই ঈদ একটা আনন্দের ঈদ খুশির ঈদ।

ঈদে মিলাদুন্নবীর ইতিহাস গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ঈদে মিলাদুন্নবী কি

মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির সূচনা পর্বে অদ্বিতীয় সত্তা অবস্থায় বিরাজমান ছিলেন। তখন তার মাঝে স্ত্রীও পরিচয় প্রকাশের অভিলাষ জাগরিত হওয়ার পর সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করলেন। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা নিজেই এরশাদ করেন- আমি ছিলাম গুপ্ত ধনাগার। নিজেকে প্রকাশ করতে ভালোবাসলাম তাই সৃষ্টি জগত সৃজন করলাম (সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা- ১০)।আপন রূপ গুণ ও মাধুর্য প্রকাশের লক্ষ্যে আল্লাহতালা সর্বপ্রথম তার সমস্ত গুণাবলী দারা নূরে মোহাম্মদী সৃষ্টি করেছেন। আর নূরে মোহাম্মদী হতে সমস্ত সৃষ্টিরাজি সৃজিত হয়েছে। এজন্য হাদীস শরীফে হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু (সাঃ) ফরমান-আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম আমার নূরকে সৃজন করেছেন। আমি আল্লাহর নূর হতে আর সমস্ত সৃষ্টিরাজি আমার নুর হতে (সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা-৩)।অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম আমার নুর কে সৃষ্টি করেছেন এবং আমার নূর থেকে সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন।

হযরত রাসূল (সাঃ) এর মাধ্যমে আপন জাত সত্তা পরিচয় প্রকাশ করবেন বলেই আল্লাহতালা স্থির পরিচায়ক তাকে সৃষ্টি করেছেন।হাদীসে কুদসীতে এরশাদ হয়েছে হে হাবীব আমি আপনাকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছু সৃষ্টি করতাম না (সিররুল আসরার পৃষ্ঠা ৭০)। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেন আল্লাহর ওয়াহেদানিয়াত ও শান-মর্যাদা প্রচার এর মধ্য মনি।তিনি তাঁকে পবিত্র কোরআনে মুহাম্মদ অর্থাৎ পরম প্রশংসিত হিসেবে আখ্যায়িত করে মানব মন্ডলী কে জানিয়ে দিয়েছেন তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ( সাঃ) এর মধ্যে রয়েছে সুন্দর তম আদর্শ (সূরা আহযাব আয়াত 21)

আল্লাহতাআলা হযরত রাসূল (সাঃ) কে মানবমন্ডলীর সাক্ষীদাতা ,সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে পৃথিবীতে প্রেরণ করবেন বলেই সৃষ্টির আদিতে হযরত আদম আঃ হতে শুরু করে পৃথিবীতে আগত সমস্ত নবী-রাসূলকে একত্রিত করে তাকে সিকার কারো এবং সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে স্মরণ করো যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক রূপে যখন একজন রাসূল মুহাম্মদ সাঃ আসবেন তখন তোমাদের অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে।

তিনি আরো বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে? এবং এ সম্পর্কে আমার অঙ্গীকার কি তোমরা গ্রহণ করলে? তারা বলল আমরা স্বীকার করলাম। তিনি বললেন তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম (সূরা আলে ইমরান আয়াত 81)।

হযরত রাসূল সাঃ সমস্ত নবীদের সরদার ও সমস্ত সৃষ্টির সেরা বলেই তাকে ইমামুল মুরসালীন বা পয়গম্বরগণের ইমাম বলা হয়েছে এবং পৃথিবীতে তার আগমনের সুসংবাদ পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।তার সম্পর্কে প্রথম আসমানী কিতাব তাওরাতে বর্ণিত হয়েছে, তোমাদের প্রভুর ঈশ্বর তোমাদের ভ্রাতৃদের মধ্য হতে আমার মুসা মতই একজন পয়গম্বর উথিত করবেন, তার কথা তোমরা মনোযোগ দিয়ে শ্রবন করবে।

ইঞ্জিল এ বর্ণিত হয়েছে, যদি তোমরা তোমাকে ভালোবাসো তবে আমার উপদেশ মত কার্য করো; আমি শরীফেও পিতার কাছে প্রার্থনা করব, যাতে তিনি তোমাদেরকে আরও একজন শান্তিদাতা প্রেরণ করে, জেনো চিরদিন তোমাদের সঙ্গে থাকতে পারবেন।

আরো বর্ণিত হয়েছে, যাই হোক তোমার উচিত যে তোমাদের মঙ্গলের জন্য আমি চলে যাই কারণ, আমি না গেলে সেই শান্তিদাতা আসবেন না; কিন্তু আমি যদি যায় তবে তাকে পাঠিয়ে দিব।

ভবিষ্য পুরাণে বর্ণিত হয়েছে,ঠিক সেই সময় মোহাম্মদ নামক এক ব্যক্তি যার বাস মরুস্থলে (আরব দেশে) আপন সাঙ্গোপাঙ্গ সহ আবির্ভূত হবেন। হে আরবের প্রভু! এ জগত গুরু; তোমার প্রতি আমার স্তুতিবাদ। তুমি জগতের সমুদয় কলুষ নাশ করার উপায় জানো, তোমাকে নমস্কার। হে পবিত্র পুরুষ! আমি তোমার দাস। আমাকে তোমার চরণও তলে স্থান দাও।

উপনিষদে আছে, আল্লাহর সকল গুণের অধিকারী। তিনি পূর্ণ ও সর্ব জ্ঞানী। মোহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ আলোকময় অসীম।

হযরত রাসূল সাঃ এর মাহাত্ম্য ও সম্মানের সমগ্র সৃষ্টি জগত তার প্রশংসায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। তাকে প্রকৃত পরিচয় পরিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পক্ষে লালনের জন্য বিশ্ব প্রকৃতির যুগ যুগ ধরে অধীর আগ্রহে প্রহর গুন ছিল।

হযরত রাসূল সাঃ কে তার আপন রূপে করে পাওয়ার জন্য যুগ-যুগান্তরের প্রতীক্ষায় পুঞ্জিভূত বেদনা ও ক্লান্তিতে সমগ্র বিশ্ব প্রকৃতি উত্তাল হয়ে ওঠে।পৃথিবীজুড়ে মানুষের নৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় যাবতীয় বিষয়ে নেমে আসে চরম অধঃপতন। মানুষকে পাপ কালিমা থেকে উদ্ধার করার মত মহীরুহের অভাবে তখন মানুষ জীবাত্মার বশীভূত হয় মানবীয় গুণাবলী হারিয়ে অনাচার অবিচার ছাড়াও অগ্নি’ পূজা মূর্তি পূজা নেয় বিভিন্ন খোদাদ্রোহী কাজে লিপ্ত ছিল। পাপ ও অন্ধকার থেকে পরিত্রাণ পেয়ে আলোর দিশা পাওয়ার জন্য পৃথিবী আকাশ-বাতাস জল স্থল পাহাড়-পর্বত সমস্তই ওই কাঙ্ক্ষিত ভাবে নুরে মোদির আগমনে প্রত্যাশায় ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল।

পৃথিবীর এমনই ঘনঘোর তমসাচ্ছন্নদিয়ে মানব জাতিকে সত্য ও শান্তির পথে তুলে আনার জন্য মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর সর্বোত্তম সৃষ্টি হযরত রাসূল সাঃ কে হিজরে পূর্ব ৫৩ সালের ১২ ই রবিউল আউয়াল সোমবার সুবেহ সাদেকের সময় এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। যাকে প্রেরণের মাধ্যমে রাব্বুল ইজ্জত আপন মাকে প্রকাশিত করতে চেয়ে ছিলেন,সেই রাহমাতাল্লিল আলামিন হযরত রাসূল সাঃ এর জন্মদিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে আনন্দের দিন।

তাই হযরত রাসূল সাঃ  কে পৃথিবীতে প্রেরণা আনন্দের আতিশয্যে মহান আল্লাহতালা তার ফেরেশতাদের নিয়ে তার প্রতি দরূদ পাঠ করেছিলেন এবং মানুষকে তার প্রতি দরূদ পাঠ করে শ্রদ্ধার সাথে সালাম জানাতে নির্দেশ করেছেন। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে-নিশ্চয় আমি নিজের  তার  নবীর উপর দরুদ পাঠ করি।  হে বিশ্বাসীরা তোমরা তার উপর দরুদ পাঠ করো ও শ্রদ্ধার সাথে সালাম পেশ করো ( সূরা-আহযাব,আয়াত-৫৬)।

সুফি সাধকদের মতে, যেদিন আল্লাহ রাসুল পাক সাঃ এই ধরাধামে আগমন করেছিলেন, সেদিন আল্লাহর নিজে, তার ফেরেশতারা, সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম, সমস্ত আউলিয়ায়ে কেরাম,রুহানিতে হযরত রাসূল সাঃ এর জন্মের আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাকে অভিবাদন জানিয়ে বলেছেন, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুল আল্লাহ, আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া হাবিব আল্লাহ, মারহাবা ইয়া রাসুল আল্লাহ, মারহাবা ইয়া হাবিব আল্লাহ। ঈদে মিলাদুন্নবী কি-ইতিহাস হাদিস গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিচে আরো পড়ুন।

রাসূল সাঃ এর শুভ জন্মদিন ন্য়ায় বহু অলৌকিক ঘটনা পরিপূর্ণ ‌

ঈদে মিলাদুন্নবী

  1. নওশেরাওয়া বাদশাহর সিংহাসন নড়ে উঠা।
  2. মাওয়া দরিয়ার শুকিয়ে যাওয়া
  3. সাম হওয়া হ্রদ পানিতে পড়ে যাওয়া
  4. পারস্যের অগ্নিকুণ্ড হঠাৎ নিভে যাওয়া
  5. কাবা ঘরের হবুল নামক বৃহৎ মূর্তিটি উপর হয়ে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

সামাজিক ভাবে দেখা যায়, খ্রিস্টানরা তাদের নবী হযরত ঈসা আলাই সাল্লাম এর জন্মদিন ধুমধামের সাথে পালন করে থাকে।অনুরূপভাবে অন্য সকল ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ধর্মের প্রবর্তক দের জন্মদিন গুরুত্বসহকারে পালন করে থাকে।কিন্তু আমাদের নবী হযরত রাসূল সাঃ সমস্ত নবী রাসুলের ইমাম বা নেতা হওয়া সত্ত্বেও আমরা তার শুভ জন্মদিন পালন করি না।অথচ পৃথিবীর সমস্ত নবী-রাসূল ও ধর্ম প্রচারক কে হযরত রাসূল সাঃ এর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে তার আশীর্বাদ কামনা করেছেন। যেমন, ঈসা আলাই সাল্লাম বলেন,  হে বনী ইসরাঈল, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল। আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি প্রদানকারী এবং আমি এমন একজন রাসুলের সুসংবাদ দাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন, তার নাম আহমদ।

এমনকি ঈসা আলাই সাল্লাম হযরত রাসূল সাঃ এর উম্মত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে হাদিস

ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত চারটি হাদিস:

  1. ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ বলেন, যে ব্যক্তি হুযুর সাঃ এর মিলাদ শরীফের অর্থ ব্যয় করেন, সে আমার সাথে বেহেশত থাকবে।
  2. হযরত ওমর রাঃ বলেন,যে ব্যক্তি হুযুর সাঃ এর মিলাদ শরীফ কে ইজ্জত ও সম্মান দেবে সে যেন ইসলামকে পূর্ণ জীবিত করল।
  3. হযরত উসমান রাঃ বলেন,প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মিলাদ শরীফ উদযাপন করতে গিয়ে অর্থ ব্যয় করবে, সে যেন বদর ও হুনাইনের মত মহান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলো।
  4. হযরত আলী মোরতাজা রাঃ বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনকারী ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করবে।

ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে আলোচনা

মহান আল্লাহতালা সবচেয়ে প্রিয় নবী হলেন হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম। তার মর্যাদা এতই সমুন্নত যে, তাকে না ভালবাসলে কেউ মুমিন হতে পারবে না, তার উপর দরুদ না পাঠ করলে কারও এবাদত আল্লাহ কবুল করবেন না, তার ওছিলা ছাড়া কারো প্রার্থনা আল্লাহর দরবারে মঞ্জুর হবে না, তার সুপারিশ ছাড়া কারো মুক্তি হবে না।হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে আল্লাহ তাআলা বিশ্ব-জাহানের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। শুধু তাই নয় আল্লাহর তার হাতের সমস্ত ধনভান্ডার এর চাবি দিয়েছেন।

অথচ হযরত রাসূল সাঃ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন যে তিনি নিতান্তই গরিব ছিলেন। দারিদ্র্যের কারণে তিনি ঠিকমতো আহার জোগাতে পারতেন না। দিনের-পর-দিন অনাহারে কাটাতেন। ক্ষুধার তাড়নায় পেটে পাথর বেঁধে তিনি একটু স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করতেন। তার পরিধান করার মতো কোনো ভালো জামা কাপড় ছিল না। ছেরা জামা সত্তর তালি দিয়ে তা তিনি পরিধান করতেন।নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি ইহুদীর বাড়িতে গিয়ে গভীর কুয়া থেকে এক বালতি পানি উত্তোলনের বিনিময় একটি খোরমা লাভের আশায় কাজ করতে।

দোজাহানের বাদশা হযরত রাসূল সাঃ সম্পর্কে এ ধরনের উক্তিকে ইতিহাসের আলোকে বিবেকের কষ্টিপাথরে যাচাই করলে এর কোন ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না।বরং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে এ মিথ্যা অপপ্রচার গুলো করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।কারণ আল্লাহ তাআলা নিজে হযরত রাসূল (সাঃ) এর সুউচ্চ মর্যাদা স্বীকৃতি দিয়েছেন।

হাদিসে কুদসীতে এরশাদ হয়েছে ,হে হাবীব আমি আপনাকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না (সিররুল-আসরার, পৃষ্ঠা-১০৭)। আল্লাহ তাআলা যাকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছু সৃষ্টি করতেন না, যাকে তিনি সমগ্র বিশ্ব জাহানের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন, তিনি আবার গরিব হন কিভাবে? এবিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

ইতিহাস গবেষণা করলে দেখা যায়, হযরত রাসূল (সাঃ) আরবের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত ও প্রভাব-প্রতিপত্তি শীল কুরাইশ বংশের হাশেমী গোত্রে জন্মগ্রহণ করে।তার পিতা আব্দুল্লাহ ছিলেন তৎকালীন মক্কা নগরীর শাসনকর্তা ও পবিত্র কাবা শরীফের হেফাজতকারী সর্বজন শ্রদ্ধেয় আব্দুল মুত্তালিব এর সবচেয়ে আদরের সন্তান। আর তার মাতা আমিনা ছিলেন মদিনার বজরা গোত্রের খ্যাতনামা ও সম্মানিত নেতা আব্দুল ওয়াহহাব এর কন্যা। তার মাতা আমিনা মানসিক পবিত্রতায়, বংশীয় আভিজাত্যে, সম্মান ও মর্যাদা চরিত্র ও সততায় অতুলনীয় ছিলেন বলেই স্ত্রীর মাঝে তিনি,সায়িদাতুন- নিসা উপাধিতে খ্যাত ছিলেন। সুতরাং হযরত রাসূল (সাঃ) পিতৃকুল ও মাতৃকুল এর উভয় দিক থেকে আরবের সবচেয়ে ধনী সম্মানিত ও সৃষ্ট পরিবারের লোক ছিলেন।

হযরত রাসূল (সাঃ) আজন্ম ধনে, মানে, গুণে অতুলনীয় ছিলেন। ফলে তার প্রতি আপামর মানুষের ছিল অগাধ বিশ্বাস। তার দ্বারা আমানতের খেয়ানত করার কোনো সম্ভাবনা নেই এ অবস্থায় ছিল বলেই আরবের সম্পদশালী লোকেরা তার নিকট নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্র গচ্ছিত রাখতেন এবং সবাই তাকে আল-আমিন বলে ডাকতেন। প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আপনারাই বলুন কোন গরিব লোকের কাছে কি কেউ আমানত রাখে? যেহেতু সবাই তার কাছে আমানত রাখা সবচেয়ে নিরাপদ মনে কড়তো নিশ্চয় তিনি ধনী ছিলেন।

হযরত রাসূল (সাঃ) যখন পঁচিশ বছর বয়সে উপনীত হলেন তখন তার সুন্দর আদর্শ ও চরিত্রের মুগ্ধ হয়ে আরবের সেরা ধনাঢ্য হযরত খাদিজা (রাঃ) তাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দেন। হযরত রাসূল (সাঃ)  অভিভাবক ও পিতৃত্ব আবু তালিবের সম্মতিক্রমে হযরত খাদিজা (রাঃ) কে বিবাহ করেন। বিবাহের পর হযরত খাদিজা (রাঃ) নিজের যাবতীয় সম্পত্তি হযরত রাসূল (সাঃ) এর কাছে উৎসর্গ করে দেন। এখন প্রশ্ন হলো, হযরত রাসূল (সাঃ) যদি  দরিদ্র হতেন তাহলে কি বিবি খাদিজা তাকে বিয়ে করতেন? বিবাহের পর হযরত রাসূল (সাঃ) এর ব্যক্তিগত অবস্থা আরো সুদৃঢ় হয়। এ থেকে বোঝা যায় যে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কখনো গরিব ছিলেন না। কাফেররা এটি চক্রান্ত করে মুসলমান জাতির কাছে এই মিথ্যা অপপ্রচার সরিয়ে দিয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি জায়েজ

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা 100% জায়েজ। যে নবী বৃষ্টি না হলে আমি আপনি কেউ সৃষ্টি হতাম না।যে নবী সৃষ্টি না হলে নামায-রোযা হজ্ব-যাকাত কোন কিছুই সৃষ্টি হতো না। সে নবীর জন্মদিন পালন করা আমাদের জন্য অতি উত্তম। ঈদে মিলাদুন্নবী বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের জন্য উদযাপন করা উত্তম কাজ।

হযরত আলী বলেছেন ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করি ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করবে।এ থেকে বোঝা যায় যে ঈদে মিলাদুন্নবী কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের  জন্য।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের কিছু ঘটনা

570 খ্রিস্টাব্দ: হিজড়ে পর্ব 53 সালের 12 রবিউল আউয়াল সুবেহ সাদিকের সময় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শুভ জন্ম।

610 খ্রিস্টাব্দে: 40 বছর বয়সে নবুয়ত এর সূচনা। সর্বপ্রথম হেরা পর্বতের গুহায় ওহী নিয়ে জিব্রাইল আলাই সাল্লাম এর আগমন। গোপনে ইসলাম প্রচার শুরু। সর্বপ্রথম হযরত খাদিজা (রাঃ) হযরত আলী ও হযরত আবু বক্কর সিদ্দিক (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণ। হযরত আরকাম রাঃ এর ঘরে ইসলাম প্রচার কেন্দ্র স্থাপন।

620 খ্রিস্টাব্দ: ইসলাম প্রচারের জন্য তাইফ গমন।তাইফবাসির ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি ও নির্মম অত্যাচার। হযরত সাওদা রাঃ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। ( দ্বিতীয় বিবাহ) ।

হজ উপলক্ষে হজ যাত্রীদের কাছে ইসলাম প্রচার। মদিনায় খাজরাজ বংশীয় সহজন ব্যক্তিবর্গের ইসলাম প্রচার শুরু। হযরত আয়েশা রাঃ এর সাথে বিবাহ বন্ধন ( তৃতীয় বিবাহ)।

ঈদে মিলাদুন্নবী কি-ইতিহাস হাদিস গুরুত্ব ও তাৎপর্য সে সম্পর্কে কিছু সংক্ষীপ্ত বিবরন তুলে দরেছি।আসা করি ভালো লেগেছে আপনাদের।