health tips

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা ২০২১-২০২২ এর খাদ্য চার্ট

ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস

আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে প্রাচীন মিশরীয় লিপিতে অত্যধিক মূত্র নির্গমন বলে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।  প্রথম বর্ণিত রোগীটি টাইপ-১ ডায়াবেটিস বলে মনে করা হয়। গ্রিক চিকিৎসক অ্যাপোলোনিয়াস অব মেমফিস খ্রিস্টপূর্ব ২৩০ সালে প্রথমবারের মতো ডায়াবেটিস শব্দটি ব্যবহার করেন। রোমান সাম্রাজ্যের সময় রোগটি বিরল ছিল। বিখ্যাত গ্রিক চিকিৎসক গেইলেন মন্তব্য করেন যে তিনি তার পেশাগত জীবনে মাত্র দুজন ডায়াবেটিস রোগী দেখেছেন প্রায় একই সময়ে প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসকগণ রোগটির অস্তিত্ব খুঁজে পান এবং এই রোগীর মূত্র পিপড়াদের আকৃষ্ট করত দেখে তারা এই রোগের নাম দিয়েছিলেন মধুমেহ।

সংস্কৃত ভাষায় মধু মানে শর্করা আর মেহ দ্বারা মূত্র বুঝায়। ৪০০-৫০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে দুটি আলাদা রোগ হিসেবে সর্বপ্রথম শনাক্ত করেছিলেন দুই প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসক সুশ্রুত ও চরক যথাক্রমে তাদের সুশ্রুত সংহিতা ও চরক সংহিতা নামক পুস্তকে। সেখানে তারা বলেছিলেন টাইপ-১ তারুণ্য ও টাইপ-২ অধিক ওজনের সাথে সম্পর্কিত।

ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস নামে আরেকটি রোগ রয়েছে যেটিও বহুমূত্রের সাথে সম্পর্কিত তাই এই রোগ থেকে পৃথকীকরণের জন্য ডায়াবেটিসের সাথে মেলিটাস  শব্দ যোগ করেন ব্রাইটন জন রোল নামে একজন বিজ্ঞানী। বিংশ শতাব্দীর প্রথমাংশের আগ পর্যন্ত এই রোগের ফলপ্রসূ কোনো চিকিৎসা ছিল না। দুই কানাডীয় বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক বেনটিং ও চার্লস বেস্ট ১৯২১ ও ১৯২২ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেন।  এরপর ১৯৪০ সালের দিকে দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় নিউট্রাল প্রোটামিন হ্যাগেডর্ন (NPH) ইনসুলিন উদ্ভাবিত হয়। ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা ২০২১-২০২২ এর খাদ্য চার্ট নিচে দেয়া হলো।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

বিজ্ঞান যত উন্নত হচ্ছে নতুন নতুন রোগ ব্যাধির দিনদিন তৈরি হচ্ছে।সারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ এর মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। ডায়াবেটিসকে সকল রোগের মা বলা হয়।জরিপ করে দেখা গেছে পৃথিবীতে প্রতি 10 সেকেন্ডে একজন করে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী মারা যায় এবং প্রতি 10 সেকেন্ডে দুইজন ডায়াবেটিস রোগী শনাক্ত হয়। তবে এত ভয় পাবার কোন কারন নেই সঠিক নিয়মে খাবার খেলে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস হলে যে সকল খাবার বেশি খাবেন

  • দেশজ মাছ ও মুরগি।
  • শাক সবজি ও ফলমূল– মূলত পরিষ্কার, টাটকা ও রঙিন শাকসবজি ভাল। জুসের থেকে ফল বেশি খেতে হবে।
  • উপকারী চর্বি যেমন, বাদাম, অলিভ ওয়েল, মাছের তেল ইত্যাদি।
  • ভাল প্রোটিন জাতীয় খাবার– যেমন, ডিম, অল্প চর্বি জাতীয় দুধ, টক দই ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস রোগ হলে কি খাবার কম খাবেন?

  • প্রক্রিয়াজাত মাছ বা মাংস
  • সাদা পাউরুটি, চিনিযুক্ত সেরিয়াল, প্রক্রিয়াজাত পাস্তা বা চাল
  • প্যাকেটজাত ফাস্ট ফুড, বিশেষ করে যাতে চিনি, বেকিং করা খাবার, মিষ্টি, ডেজারট, চিপস ইত্যাদি থাকে।
  • ডিপ ফ্রাই খাবার বা অতিরিক্ত রান্না করা খাবার

ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকা ও ডায়েট চার্ট

ডায়াবেটিস রোগ হচ্ছে সকল রোগের মাতা।এ রোগ হলে আপনার প্রায় সব ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ডায়াবেটিস রোগ হলে আপনি কি কি খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে তা এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ হল একটি রোগ যা আমাদের খাদ্যাভাসের সাথে অনেকাংশে নির্ভরশীল। এ রোগ হলে আপনার বিভিন্ন ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যেমন মানসিক রোগ হৃদরোগ, ডিপ্রেশন, জনিত রোগ ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য শর্করা জাতীয় খাবার ক্ষতিকর কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এজন্য ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের খাবারের তালিকা থেকে শর্করা জাতীয় খাবার কমাতে হবে বা বাদ দিতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার গুলোর মধ্যে হচ্ছে চিনি, মিষ্টি, বেশি ছাটা চালের ভাত, ময়দার রুটি সেগুলো কম খেতে হবে।

ডায়াবেটিস সংক্রমিত রোগীরা লাল চালের ভাত ,গরম আটার রুটি, সবজি ,বাদাম, বুট এবং কলায় জাতীয় খাদ্য তাদের খাদ্যতালিকায় বেশি রাখতে হবে কারণ এসকল খাবার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে। তবে তাদের ক্যালরির কথাও মাথায় রাখতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের মোট ক্যালরির 20 % আসবে আমির থেকে , ৩০% আসবে ফ্যাট থেকে এবং ৫০% আসবে শর্করা থেকে।

সকালের নাস্তা (সকাল ৭.৩০ – ৮ টা)

ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকা ও ডায়েট চার্ট

  1. ডিম (১ সারভিং)  ——– ১ টা মুরগী অথবা হাঁসের ডিম (সিদ্ধ অথবা ভাঁজি)
  2. দুধ (১ সারভিং) ———– ১ গ্লাস ফ্যাট ছাড়া দুধ বা স্কিম মিল্ক
  3. রুটি (১ সারভিং)———– ১ টা গমের আটার রুটি (মিডিয়াম)
  4. শাক সবজি (১ সারভিং)—–১ কাপ পাতা যুক্ত শাক বা ১/২ কাপ সবজি

ডায়াবেটিস রোগীর দুপুরের খাবার(দুপুর ১.৩০ – ২ টা)

  • শাক-সবজি ও ডাল খাবার তালিকায় বিভিন্ন রকমের ডাল এবং সবজি রাখতে হবে। তবে খুব বেশি ঝাল মশলা দিয়ে না। দুপুরের খাবারে লাল শাক, পালং শাক,পুঁই শাক ইত্যাদি নানা ধরণের শাক থাকতে পারে।
  • মাছ বা মাংস: এক টুকরো মাছ অথবা মাংস খাবার তালিকায় রাখবেন। কিন্তু রেড মিট একেবারেই খাবেন না। মুরগির এক বা দুই পিস এবং যেকোন মাছ থাকতে পারে। ভাত খাওয়া উচিত নয়। আর খেলেও মেপে এক কাপ এর বেশি না।
  • ফল: হালকা কিছু ফল খাবার পর খেতে পারেন। এতে শরীর সতেজ থাকবে।
  • স্যালাদ: বিভিন্ন ধরণের সবজি যেমন শসা, টমেটো, লেটুস পাতা, পার্সলে পাতা, গাজর সব মিলিয়ে একটি স্যালাদ অবশ্যই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখতে হবে।

বিকেলের নাস্তা ( বিকেল ৫.৩০ – ৬ টা)

১. বাদাম, বুট এবং কলাই জাতীয় খাদ্য (১ সারভিং) —- ১/৪ কাপ বাদাম বা বুট বা কলাই জাতীয় খাদ্য

২. সিজনাল ফল (১ সারভিং)———–পছন্দমত ১ সারভিং সিজনাল ফল