Poetry

বর্ষার দিনে কবিতা

রবি ঠাকুরের বর্ষার কবিতা

বর্ষার দিনে কবিতা, রবি ঠাকুরকে নিয়ে বলার তেমন কিছু নেই। রবি ঠাকুরের বর্ষার কবিতা ,কারণ এই মানুষটা কে চিনে না পৃথিবীর এমন কোন লোক নেই। তিনি হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যার জন্ম ভারত বাংলা উপমহাদেশে। আজকে তার একটি বর্ষাকালীন কবিতা আপনাদের মাঝে তুলে ধরব।যদি কবিতাটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিবেন।

সোনার তরী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

https://infofact360.com/wp-content/uploads/2021/07/217314471_356084752591019_5362772501465592449_n.jpg

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।

গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ভরা-পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু-ধারে–
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।

ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্‌ বিদেশে,
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
যারে খুশি তারে দাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।

যত চাও তত লও তরণী-‘পরে।
আর আছে?– আর নাই, দিয়েছি ভরে।
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে–
এখন আমারে লহ করুণা করে।

ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই– ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি–
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।

জরুলের বর্ষার কবিতা

https://infofact360.com/wp-content/uploads/2021/07/216641694_688611962010202_3321293720201501153_n.jpg

কাজী নজরুল ইসলাম হচ্ছেন আমাদের জাতীয় কবি।কিন্তু আমি মনে করি তিনি বিশ্বকবি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কারণ তাঁর কবিতার মাঝে যে ভাব যে প্রেম যে জ্ঞান যে বিদ্রোহ অন্য কোন কোভিদ কবিতায় তা প্রকাশ পায় না। আজকের নজরুলের বর্ষার কবিতা আপনাদের মাঝে তুলে ধরব। যদি কবিতাটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে সবার মাঝে শেয়ার করে সবাইকে পড়ার সুযোগ করে দিন।

​​ ​​​​ বর্ষা বিদায়-কাজী নজরুল ইসলাম

ওগো বাদলের পরী!

যাবে কোন্‌ দূরে,​​ ঘাটে বাঁধা তব কেতকী পাতার তরী!

ওগো ও ক্ষণিকা,​​ পুব-অভিসার ফুরাল কি আজি তব?​​

পহিল্‌ ভাদরে পড়িয়াছে মনে কোন্‌ দেশ অভিনব?

তোমার কপোল-পরশ না পেয়ে পান্ডুর কেয়া-রেণু,

তোমারে স্মরিয়া ভাদরের ভরা নদীতটে কাঁদে বেণু।

কুমারীর ভীরু বেদনা-বিধুর প্রণয়-অশ্রু সম

ঝরিছে শিশির-সিক্ত শেফালি নিশি-ভোরে অনুপম।

 ​​​​​ওগো ও কাজল-মেয়ে,​​

উদাস আকাশ ছলছল চোখে তব মুখে আছে চেয়ে’।

কাশফুল সম শুভ্র ধবল রাশ রাশ শ্বেত মেঘে

তোমার তরীর উড়িতেছে পাল উদাস বাতাস লেগে’।​​

ওগো ও জলের দেশের কন্যা! তব ও বিদায়-পথে

কাননে কাননে কদম-কেশর ঝরিছে প্রভাত হ’তে।​​

তোমার আদরে মুকুলিতা হয়ে উঠিল যে বল্লরী

তরুর কণ্ঠ জড়াইয়া তা’রা কাঁদে নিশিদিন ভরি’।

 ​​​​ ‘বৌ-কথা-কও’​​ পাখি

উড়ে গেছে কোথা,​​ বাতায়নে বৃথা বঊ করে ডাকাডাকি।

চাঁপার গেলাস গিয়াছে ভাঙিয়া,​​ পিয়াসী মুধুপ এসে’

কাঁদিয়া কখন গিয়াছে উড়িয়া কমল-কুমদী দেশে।

​​ ​​​​তুমি চলে যাবে দূরে,

ভাদরের নদী দুকূল ছাপায়ে কাঁদে ছলছল সুরে!

যাবে যবে দূর হিম-গিরি শিরে,​​ ওগো বাদলের পরী,

ব্যথা ক’রে বুক উঠিবে না কভু সেথা কাহারেও স্মরি’?

সেথা নাই জল,​​ কঠিন তুষার,​​ নির্মম শুভ্রতা,–

কে জানে কি ভাল বিধুর ব্যথা — না মধুর পবিত্রতা।

সেথা মহিমার উর্ধ্ব শিখরে নাই তরলতা হাসি,

সেথা রজনীর রজনীগন্ধা প্রভাতে হয় না বাসি।​​

সেথা যাও তব মুখর পায়ের বরষা-নূপুর খুলি’,

চলিতে চকিতে চমকি’​​ উঠ না,​​ কবরে ওঠে না দুলি’।

সেথা র’বে তুমি ধেয়ান-মগ্না তাপসিনী অচপল,

তোমার আশায় কাঁদিবে ধরায় তেমনি “ফটিক জল”।

বর্ষার কবিতা জীবনানন্দ

https://infofact360.com/wp-content/uploads/2021/07/217074566_990447401715235_8018229793590456578_n.jpg

আরো পড়ুন:

জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত