health tips

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি-যা আগে কেউ বলেনি

অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি

অলিভ অয়েল, এনাম তে শুনেনি এমন লোক খুব কমই আছে। কিন্তু আমরা জানি না এই অলিভ অয়েল এর গুনাগুন সম্পর্কে। অলিভ অয়েলের নানাবিধ ও গুনাগুণ রয়েছে।স্বপ্নে যদি অলিভ অয়েল এর সঠিক ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনি এর নানা বিধ গুনাগুন পেয়ে যাবেন। আজকে আমরা আলোচনা করব অলিভ অয়েলের নানাবিধ এর গুনাগুন সম্পর্কে।আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়বেন তাহলে আপনি অলিভ অয়েল সম্পর্কে একটি বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন।অলিভ অয়েল তেলের উপকারিতা কি তা নিচে দেওয়া হলো।

অলিভ অয়েল কত প্রকারের হয়?

আমরা মূলত বাজারে বোতলে যে অলিভ অয়েল পাওয়া যায় তা দেখে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে অলিভ অয়েল এর প্রকারভেদ অর্থাৎ অলিভ অয়েল কত প্রকারের হয়ে থাকে। অলিভ অয়েল মূলত চার ধরনের হয়ে থাকে। আজকে আপনাদের এই চার ধরনের অলিভ অয়েল এর নাম শেয়ার করব।

  •  লাইট অ্যান্ড এক্সট্রা লাইট :– এই প্রকারের অলিভ অয়েল সাধারণত জ্বালানি হিসেবে ব্য়বহৃত হয়, রান্নায় এই তেলের ব্যবহারের প্রচলন নেই ৷
  • এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল: – এটিও উচ্চমানের অলিভ অয়েল ৷ স্যালাড ড্রেসিং থেকে শুরু করে সবজি রান্নায় এই তেল ব্যবহার করা হয় ৷ তবে এর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষেই এই তেল কেনা অসম্ভব হয়ে যায়
  •  পিওর অলিভ অয়েল :– রিফাইন এবং ভার্জিন অয়েলের একত্রীকরণে তৈরি হয় এই পিওর অলিভ অয়েল ৷ এতে উচ্চ মাত্রায় অ্যাসিড প্রভাব  থাকায় এবং ব্যবহার খুব বেশি হয় না ৷
  • ভার্জিন অলিভ অয়েল :– রান্নার ক্ষেত্রে এটি সবথেকে বেশি ব্য়বহৃত হয় এবং এতে কম পরিমাণে অ্যাসিড থাকে৷ তাই অনেকেই ভার্জিন অলিভ অয়েল পছন্দ করেন ৷

ত্বকের জন্য় অলিভ অয়েলের উপকারিতা

ত্বকের জন্য় অলিভ অয়েলের উপকারিতা

কীভাবে ব্য়বহার করবেন অলিভ অয়েল?

  1.  অলিভ অয়েলে কিছুটা লবণ মিশিয়ে নিন ৷
  2. এবার এই মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ তা রেখে দিন ৷
  3. পরে তা ইষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ৷
  4. এটি স্ক্রাবারের কাজ করবে ৷
  5. সপ্তাহে এক বা দুই বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ব্রণর প্রকোপ কমতে পারে ৷

ঠোঁটে অলিভ অয়েল ব্য়বহারের পদ্ধতি

  • এর জন্য় আপনাকে, ব্রাউন সুগার গুঁড়ো করে, তাতে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল এবং এক ফোঁটা পাতিলেবুর রস দিয়ে একটি মিশ্রম প্রথমে তৈরি করে নিতে হবে ৷
  • ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই মিশ্রণটি পাঁচ মিনিট ঠোঁটে আলতো করে ঘষুন ৷
  • তেল যেমন আপনার ঠোঁটকে নরম করে তুলবে, তেমনই ব্রাউন সুগার এবং পাতি লেবুর স্ক্রাবার ঠোঁটকে পরিষ্কার করে সজীব করে তুলবে ৷
  • নরম তুলো দিয়ে ঠোঁট ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে নিন ৷

চুলের জন্য় অলিভ অয়েল-এর উপকারিতা

১. শ্যাম্পু করার আগে অলিভ অয়েল হালকা গরম করে মাথায় মাসাজ করে নিন ৷ মাথা ধোওয়ার সময় হালকা গরম জল ব্য়বহার করুন ৷ এটি যেমন ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে তেমনই চুল পড়াও কমাবে ৷

২. অলিভ অয়েল মাসাজ চুলের গোড়া শক্ত করার পাশাপাশি চুলের ঔজ্জ্বল্য়ও ধরে রাখতে সহায়তা করবে ৷ এতে থাকা ভিটামিন ই এক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে ৷

৩. ত্বকের সার্বিক রক্ষা- ত্বককে নানাবিধ রোগের হাত থেকে এই অলিভ অয়েল রক্ষা করে ৷

৪. তেলে থাকা ভিটামিন ই চুল পড়ে যাওয়া কমাবে এবং সেই সঙ্গে চুলের বৃদ্ধি কত দ্রুত হচ্ছে তাও আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন

৫. ত্বকের সার্বিক রক্ষার জন্য় একটি কাপের এক তৃতীয়াংশ দই, এক চতুর্থাংশ মধু এবং দুই চামচ অলিভ এয়েল নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে ৷

৬. এবার এটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে৷ পুরু আস্তরণ করে মুখে এই মিশ্রণ লাগাতে হবে ৷

৭. কুড়ি মিনিট পরে হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে ৷ সপ্তাহে দু দিন এইভাবে অলিভ অয়েল ব্য়বহার করলে উপকার পাবেন ৷

চুলের স্বাস্থ্য় অলিভ অয়েল

প্রয়োগের পদ্ধতি

  • হাফ কাপ অলিভ অয়েল-এর সঙ্গে দু চামচ মধু এবং একটি ডিমের কুসুম ভালো করে মিশিয়ে নিন প্রথমে ৷
  • এবার তা চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে ৷
  • এরপর ইষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ৷
  • শেষে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিতে পারেন ৷ এভাবে চুলের স্বাস্থ্য় ভালো রাখতে পারবেন দীর্ঘদিন ৷

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে অলিভ অয়েল

এতে অত্য়ধিক মাত্রায় মনোস্যাচুরেটেড ফ্য়াট থাকে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে  ৷

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল খেতে পারেন ৷

প্রতিদিন ভোরে খালি পেটে এক গ্লাস কমলালেবুর রসে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পান করুন, দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ধীরে ধীরে চলে যাবে ৷

এক কাপ গরম দুধে এক টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল মিশিয়ে খালি পেটে তা পান করতে পারেন৷

প্রতিদিন এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল-এর সঙ্গে এক টেবিল চামচ পাতি লেবুর রস মিশিয়ে খেলে খুব স্বাভাবিক নিয়মেই কোষ্ঠকাঠিন্য় থেকে মুক্তি পাবেন ৷

এছাড়া ভিটামিন ই, কে, আয়রন, ওমেগা-৩, এই উপাদানগুলিও থাকে অলিভ অয়েলে ৷ এতে আপনার হজম শক্তিতে ভালো প্রভাব পড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয় ৷

অলিভ অয়েল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের বেশি অলিভ অয়েল গরম করবেন না ৷ নাহলে এর সমস্ত গুণ চলে গিয়ে এটি শরীরের উপকারে তো আসবেই না, উল্টে বিপদ বাড়বে ৷
  • অলিভ অয়েলে থাকা প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে ৷ মনে রাখবেন প্রতিদিন দুই টেবিল চামচের বেশি এই তেল ব্য়বহার করবেন না ৷
  • অতিরিক্ত মাত্রায় অলিভ অয়েল ব্য়বহারে বেড়ে যেতে পারে আপনার ওজনও ৷ তাই এই তেল নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্য়বহার করতে হবে ৷
  • মাত্রাতিরিক্ত অলিভ অয়েল ব্য়বহারে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়তে পারে, এছাড়া গলব্লাডার ব্লকেজসহ অন্যান্য় সমস্য়ার সৃষ্টি হতে পারে ৷
  • শরীরে কোনও ক্ষতস্থানে কোনওভাবেই এই তেল লাগাবেন না ভুল করেও ৷ নাহলে সমস্যা বাড়তে পারে ৷
  • আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হন তাহলে অলিভ অয়েল ব্য়বহারের আগে অবশ্য়ই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ৷