News

বাংলাদেশ কী শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পথে যেতে পারে- তাহলে কি বাংলাদেশ দেউলিয়া হতে যাচ্ছে?

বাংলাদেশ কী শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পথে যেতে পারে, তবে কি শ্রীলংকার মত দেউলিয়া হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ? তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে শ্রীলংকা কেন? কি কারণে আজকে শ্রীলংকা দেউলিয়ার পথে? আজকে এসকল বিষয় নিয়ে সুন্দর একটি প্রতিবেদন আপনাদের সাথে শেয়ার করব। প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

অর্থনৈতিক সংকটের মুখে শ্রীলংকা। কিন্তু কেন দেউলিয়া হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা এই প্রশ্নটিই সবার মুখে মুখে। এ বিষয় নিয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা জিএম কাদের বলেন অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পড়তে পারে। বুধবার সংসদে সপ্তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন আমরা গর্ব করি মাথাপিছু আয় বেড়েছে কিন্তু জিডিপির বৃদ্ধির ভালো কিন্তু শ্রীলংকার ঘটনাগুলি আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত অগ্রগতির দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকা একটি ছিল। কিন্তু এখন সেই শ্রীলংকা প্রচুর ঋণের বোঝা আর বিদেশি মুদ্রার অভাবে দেউলিয়া হতে বসেছে।

বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রচুর উন্নয়নের জোয়ার বয়ে চলেছে। তাহলে কি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মত দেউলিয়া হতে চলেছে। জনমানব মুখে এখন এই প্রশ্নটিই ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন। শ্রীলংকার মত দেউলিয়া হবে না বাংলাদেশ। এর কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো অনেক স্ট্রং।

বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু তৈরি এবং সেই সাথে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আরো অনেককিছু মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেইসাথে বৈদেশিক ঋণ নিয়ে আরো অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেমন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল ,পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসে,পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ,পাবনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ সহ অসংখ্য মেগা প্রকল্প কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পগুলোর হবার পরেও বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় জোট বিএনপি এবং অন্যান্য নেতারা কেন শ্রীলংকা মালদ্বীপ পাকিস্তানের মত আশঙ্কা করছে।

উপরে যে প্রকল্প গুলোর নাম বলা হয়েছে-সেগুলো প্রায় অধিকাংশের বেশি বৈদেশিক ঋণের আওতায় করা হচ্ছে। যদি সঠিক সময়ে এ রিন গুলা পরিশোধ করতে না পারে তাহলে কি হবে বাংলাদেশের। এই প্রশ্নগুলির বিপরীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছে তাদের ঋণ পরিশোধ করার মতো যথেষ্ট অর্থ রয়েছে। শ্রীলংকা চীনের কাছ থেকে যে অর্থ সহায়তা নিয়ে ছিল সেগুলো পরিশোধ না করার কারণে আজ তারা দেউলিয়া হতে বসেছে। বাংলাদেশ ও চীনের কাছ থেকে অনেক ঋণ গ্রহণ করেছে সেগুলো যদি না দিতে পারে তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা কি হবে? বাংলাদেশ এর পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করলেও চীনের সহায়তায় অন্যান্য প্রায় সব প্রকল্প বিদেশী ঋণে হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিগত ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটে দেখা যায় দেশের শিক্ষা খাত ও চিকিৎসা খাতে বার্ষিক বরাদ্দ বাজেটের ৫ শতাংশের কম। অথচ বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ করতে ব্যয় করতে হয় বাজেটের মোট বরাদ্দের ১৮ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণ আরো বেড়েছে।

বর্তমান সময়ে একটি আলোচিত ট্রাফিক হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি শ্রীলঙ্কার মতো হবে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ইসলামিক যোট সহ বাংলাদেশের আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে শ্রীলঙ্কা ,পাকিস্তান, মালদ্বীপের মত হয় কিনা সে সংখ্যা প্রকাশ করেছে। কারণ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সংসদে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 50 বছরের সম্পর্ক উদযাপন করেছে কিন্তু তার আগে 2021 সালে 10 ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশের র‌্যাব বাহিনীর সাবেক ৭ ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব ধরনের সম্পদ করেছে সেই সাথে আবার তারা বিদেশী ঋণ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরিকল্পিতভাবে মেগা প্রকল্প নির্মাণ করার পরামর্শ দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে। বর্তমান সময়ে শতভাগ শিক্ষিত নাগরিকের দেশ শ্রীলংকা এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। টাকার অভাবে তারা এখন না খেয়ে জীবন কাটাচ্ছি।

এখন জনগণের প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো বিভিন্ন ধরনের মেগা প্রজেক্ট চালু করেছে। সে প্রজেক্টগুলোর যদি নির্দিষ্ট সময় শেষ করতে না পারে কিংবা বাইরের দেশ থেকে যে লোন নেওয়া হয়েছে সেগুলো যদি পরিশোধ করতে না পারে তাহলে কি হবে বাংলাদেশের।

এ বিষয়ে 6 এপ্রিল সংসদের সমাপনী অধিবেশনে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন। বাংলাদেশের উপরে এখনো তিন লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। এগুলো পরিশোধ করতে গিয়ে যদি বাংলাদেশের রিজার্ভে টান পড়ে তাহলে কি হবে।

আমাদের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে না সেটা জোর দিয়ে বলা যায় না। ক্রমাগত উন্নতিতে এক যুগ আগে যে শ্রীলঙ্কা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উঠার পথে ছিল, সেই শ্রীলঙ্কা এখন দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে। জ্বালানি তেল কিনতে না পারায় দেশটিতে এখন বিদ্যুৎ মিলছে না, গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, কাগজের অভাবে পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী। এ পরিস্থিতিতে জনবিক্ষোভে সরকারও পতনের দ্বারপ্রান্তে।