Tips & tricks

বাংলাদেশে মাটি দূষণের ৫টি কারণ

বাংলাদেশে মাটি দূষণের ৫টি কারণ। সম্মানিত পাঠক, আজকে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বাংলাদেশের মাটি দূষণের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যদি আপনি কিভাবে আমাদের দেশে মাটি দূষিত হচ্ছে সে বিষয়ে একটি পরিপূর্ণ প্রতিবেদন পড়তে চায় তাহলে আমাদের পোস্ট সম্পূর্ণ পড়বেন। তাহলে চলুন বিস্তারিত তথ্য নিচে আলোচনা করা যায়।

বন্ধুগণ আজকে আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করব মাটি  দূষণের পাঁচটি কারণ সম্পর্কে। মাটি হচ্ছে আমাদের খুব মূল্যবান একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু বিভিন্ন সময় দেখা যায় মানব সৃষ্ট কোন কারণ কিংবা প্রাকৃতিক কোন কারণে সেই মাটি বিভিন্নভাবে দূষিত হচ্ছে। এ মাটি দূষণ শুধুমাত্র মাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তা নয়। এই দূষণ এর প্রভাব মানব দেহ প্রভাব  ফেলে। আজকের প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব মাটি কিভাবে দূষিত হয় এবং এই দূষণের ফলাফল মানুষের জীবনে কিরূপ প্রভাব ফেলেছে বিস্তারিত তথ্য।

মাটি দূষণের ৫টি কারণ

  • শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ পদার্থ
  • তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিঃসরণ
  • অতিরিক্ত পলি
  • মাটি থেকে খনিজ পদার্থ আরোহন
  •  জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ

শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ পদার্থ

আমরা প্রায় সময় দেখি গৃহস্থলির বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পদার্থ মাটিতে পুঁতে না রেখে এক জায়গায় স্তুপ করে রেখে দেওয়া হয়। এর ফলে বর্জ্যগুলো পোচে গিয়ে জৈব সারের পরিণত হয়ে মাটির সাথে মিশে যায়। জৈব সার মাটির জন্য উপকারী কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে জৈবসার উৎপাদন হলে তা মাটির জন্য ক্ষতিকারক।

তারপর কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ যেমন পারদ, জেমস এবং আর্সেনিক সেই সাথে বিভিন্ন ধরনের গ্যাসোলিন পদার্থ মাটির সাথে সরাসরি মিশে যায়। তখন মাটি বিষাক্ত হয়ে ওঠে। মাটির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে এ ব্যাকটেরিয়াগুলো কলকারখানার বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থগুলো কে ভেঙে বিভিন্ন ধরনের গ্যাসে পরিণত করে। আর এই গ্যাস মাটির জন্য খুবই ক্ষতিকর। শুধু এই গ্যাস বা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক পদার্থ মাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এই মাটির মধ্যে যদি কোন সবজি-কিমবা ফল এর গাছ লাগানো হয় তাহলে পর্যায়ক্রমে সেই শাকসবজি এবং ফলমূল এর মধ্যেও এর বিষাক্ত প্রভাব পরে। যা খেলে মানবদেহের জন্য খবর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিঃসরণ

এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ গুলো মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা বিভিন্ন ধরনের বড় মেগা প্রজেক্ট থেকে বাষ্পীভূত হয় বাতাসের সাথে এবং মাটির সাথে মিশে যায়। যার ফলে মাটিতে রেডন, রেডিয়াম, ইউরেনিয়াম এর মত বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাটির সাথে মিশে যায় ।ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সেইসাথে বাতাসের সাথে মিশে যাওয়ার ফলে মানুষের ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অতিরিক্ত পলি

অতিরিক্ত পলি বলতে পানির স্রোতের কারণে উপরিভাগের মাটি যখন  পানির সাথে মিশে  নিচে সমান জমিতে গিয়ে জমা হয় তাকে পলিমাটি  বলে। যদি অতিরিক্ত পরিমাণে পলি মাটি জমা হয় তাহলে সেখানকার উদ্ভিদের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং উদ্ভিদের মাটি থেকে পুষ্টি নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে সেখানে মাটি দূষিত হতে পারে।

মাটি থেকে খনিজ পদার্থ আরোহন

খনিজ পদার্থ উত্তোলনের ফলে যেভাবে মাটি দূষিত হচ্ছে সেটি হল। খনির সম্প্রসারণের জন্য সেখানকার বন কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে। যার ফলে এর প্রভাব প্রকৃতির উপর গিয়ে পড়ছে সেই সাথে সেখানকার মাটি থেকে খনিজ সম্পদ আহরণ করার কারণে মাটির দূষিত হচ্ছে।

 জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ

মাটি দূষণের আরো একটি বড় কারণ হচ্ছে জমিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক এবং কীটনাশক ব্যবহার। সাময়িকভাবে জমির উর্বরতা মারার জন্য কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক সেই সাথে কীটনাশক প্রয়োগ করতেছে। এর ফলে যেমন মাটি দূষিত হচ্ছে সেই সাথে এই কীটনাশক গুলো বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে বিভিন্ন ধরনের কুকুর এবং জলাধারগুলো পানি দূষিত করতেছে।

আরো পড়ুন: