Tips & tricks

ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত

ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত

বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি ব্যাংক হচ্ছে ডাচ বাংলা ব্যাংক। বর্তমান সময়ে এই ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের লোন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসেছে। আজকে আপনাদের ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং কোন কোন খাদ্যে থাকে এবং তাদের উদ্দেশ্য কি সকল ধরনের তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আপনি যদি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের লোন ব্যবস্থা নিয়ে কিছু জানার থাকে তাহলে আপনি এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়বেন।তাহলে আপনি ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত একটি ধারণা পাবেন।

ডাচ বাংলা ব্যাংক ঋণের খাত

  • মৎস্য চাষ
  • পোল্ট্রি ফার্ম
  • দুগ্ধ খামার
  • শিল্প-কারখানা
  • ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প
  • নার্সারী
  • কৃষিজ উৎপাদন
  • সেবা খাত
  • বাণিজ্যিক খাত

আরো পড়ুন: আই এফ আই সি ব্যাংক হোম লোন-সম্পূর্ন তথ্য

ব্যাংক ঋণসীমা

  • সর্বোচ্চ ২.০০ (দুই) লক্ষ টাকা
  •  সর্বনিম্ন ৫০.০০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা।

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা

  1. বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  2.  আবেদনকারীকে বেকার/অর্ধ বেকার হতে হবে।
  3.  শাখার অধিক্ষেত্রের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। স্থায়ী বাসিন্দা না হলে শাখার অধিক্ষেত্রের একজন স্থায়ী বাসিন্দাকে ঋণের গ্যারান্টার হতে হবে।
  4. অন্য কোনো ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান/এনজিও অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণখেলাপী যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
  5.  বয়স সাধারণত ১৮ হতে ৪৫ বছর হতে হবে। কর্মসংস্থান ব্যাংকের পুরাতন ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।
  6.  ঋণ ব্যবহারের যোগ্যতাসহ ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা ও আর্থিক আচরণে সুনামের অধিকারী হতে হবে।
  7. প্রকল্প/প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষমতা থাকতে হবে ।
  8.  প্রকল্প/প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ/অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আরো পড়ুন: কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি ২০২২

ঋণের মেয়াদ ও পরিশোধসূচী

উৎপাদিত পণ্য/সেবার বিপণন/বাজারজাতকরণের উপর ভিত্তি করে মাসিক/ ত্রৈমাসিক/ষান্মাসিক/এককালীন কিস্তিতে ঋণের পরিশোধসূচী নির্ধারণ করা হয় ;

সাধারণত: ২ বছর। তবে প্রকল্পের প্রকৃতি, আকার, ঋণের পরিমাণ, সম্ভাব্য মুনাফা ইত্যাদি বিবেচনা করে ঋণের মেয়াদ ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর হতে পারে। কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ঋণ সহায়তা কর্মসূচীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০৮ বছর ;

মেয়াদপূর্তির আগে ঋণ পরিশোধ করে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী Early Settlement Fee (ESF) প্রদান করতে হবে।

ঋণ প্রস্তাবের সাথে প্রদেয় কাগজপত্র

  1.  প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের ঋণ প্রদানকারী শাখায় নির্ধারিত ফরমে ঋণের আবেদন;
  2.  গ্যারান্টারের সদ্য তোলা ০২ (দুই) কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি;
  3.  আবেদনকারীর সদ্য তোলা ০২ (দুই) কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি;
  4.  উদ্যোক্তা/গ্যারান্টারের স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র হিসেবে উদ্যোক্তা/গ্যারান্টারের দলিল/পর্চার ফটোকপিসহ স্থানীয় ইউ.পি চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র/ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলার কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদপত্র;
  5.  আবেদনকারী ও গ্যারান্টারের জাতীয় পরিচয়পত্রের উভয় পিঠের সত্যায়িত ফটোকপি (বাধ্যতামূলক নয়);
  6.  ১,০০,০০০/- টাকার ঊর্ধ্বে ঋণের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ;
  7.  শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের সত্যায়িত ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
  8.  প্রশিক্ষণ/অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেটের সত্যায়িত ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
  9.  ভাড়া/লীজ-এর ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র/ব্যবস্থাপকের প্রত্যয়নপত্র;
  10.  প্রকল্প/প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় বিবরণী।
  11. প্রকল্পস্থানের মালিক গ্যারান্টার হলে গ্যারান্টারের সম্মতিপত্র; (খ) ভাড়া/লীজকৃত হলে ভাড়া চুক্তিপত্র/লীজপত্রের কপি;
  12.  ড্রাগ লাইসেন্সের কপি (ঔষধের দোকানের ক্ষেত্রে) ;
  13. যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ঋণের ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ০৩টি দরপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

স্ট্যাম্প খরচ (ঋণগ্রহীতা বহন করবেন)

বলবৎ স্ট্যাম্প এ্যাক্ট অনুযায়ী চার্জ ডকুমেন্টে নিম্নরূপ মূল্যমানের স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হবে। তবে মূল্যমান পরিবর্তনযোগ্য।

ডিপি নোট / ডবল পার্টি ডিপি নোট

 ২,০০০/- টাকা মূল্যমানের জন্য ১০/- টাকা

২,০০০/- টাকার ঊর্ধ্বে ১০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের জন্য ২০/- টাকা

 ১০,০০০/- টাকার ঊর্ধ্বের মূল্যমানের জন্য ৫০/- টাকা।

হাইপোথিকেশন ডিড : ৩০০/- টাকার Adhesive Stamp যুক্ত ;

রেজিস্টার্ড বন্ধকি দলিল ও আমমোক্তারনামা : বলবৎ রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসারে।

মূল দলিল জমা রাখার স্মারকলিপি : ৩০০/- টাকার Adhesive Stamp যুক্ত।

ডিপি নোট ডেলিভারী লেটার : স্ট্যাম্পবিহীন ।

 তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টি : ৩০০/- টাকার Adhesive Stamp যুক্ত ।

সতর্কতা

  1. রশিদ ছাড়া কোনো প্রকার লেনদেন করা যাবে না ;
  2. ঋণের টাকা সার্ভিসিং ব্যাংক থেকে বুঝে নিতে হবে ;
  3.  ঋণের জন্য সরাসরি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক/কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। কোনো তৃতীয় পক্ষ বা ব্যক্তির সাহায্য নেয়া যাবে না।
  4. চেকের পিছনে স্বাক্ষর দিয়ে চেক নিজে নগদায়ন করতে হবে। অন্যের কাছে চেক হস্তান্তর করা যাবে না ।
  5.  ঋণের টাকা নগদে প্রদান করা হয় না। কেবল ঋণগ্রহীতার নামে Order চেক অথবা A/C Payee চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।