Skip to content
Home » ভাবসম্প্রসারণ: জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর

ভাবসম্প্রসারণ: জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর

  • by
জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর

 জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর

মানুষ হচ্ছে আল্লাহতালা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আমাদের চারপাশের যত জীবজন্তু রয়েছে সেগুলোর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ মানুষ। কারণ মানুষের বিচার-বিবেচনা এবং ভালো খারাপ বুঝার জ্ঞান রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা মানুষ জাতিকে বহু রকম উপাদান দিয়ে পৃথিবীতে সাজিয়েছে। আল্লাহতালা নিজেকে প্রকাশ করার জন্য এবং তার অনুগত স্বীকার করার জন্য এই সৃষ্টি জগত তৈরি করেছেন। তার সব সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মনুষ্যজাতি কে পাঠিয়েছেন। তার জন্য আমাদের সকল সৃষ্টি কে ভালবাসতে হবে তাদের সেবাযত্নে এগিয়ে আসতে হবে এবং আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার প্রার্থনা করতে হবে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি করেছেন সবকিছুই পরম স্নেহ ভালবাসার মাধুরী দিয়ে।

এই পৃথিবীতে ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর সবকিছুর উপরে তার দৃষ্টি রয়েছে এবং সবকিছু তিনি লালন-পালন করছেন। আমাদের সমাজে যারা উচ্চবিত্ত মানুষ রয়েছে যাদের অনেক টাকা-পয়সা রয়েছে তাদের উচিত গরীব দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর তাদের সেবা যত্ন করা। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন জীবে দয়া করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সবসময় জীবের সেবা করতেন এবং মানুষকে সবসময় জীবের প্রতি সহৃদয়বান হওয়ার উৎসাহ দিতেন। সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার বহিঃপ্রকাশ।মহান আল্লাহ তায়ালা কি সেবা করতে হলে সৃষ্টিকে ভালবাসতে হবে।

জীবে প্রেম করে যেইজন

সেইজন সেবিছে ঈশ্বর

মূলভাব: স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করতে হলে সৃষ্টিকে ভালবাসতে হবে।সৃষ্টিকে ভালোবাসার মাধ্যমে কেবলমাত্র স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করা যায়।

সম্প্রসারিত ভাব: এই পৃথিবীতে যত কিছু আছে সব কিছু মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি নিজেকে প্রকাশ করার জন্য পরম যত্নে ও ভালোবাসায় তার সৃষ্টি জগত তৈরি করেছেন। তিনি তার মহাশক্তি থেকে ক্ষুদ্রাংশ শক্তি জীবজগতে প্রত্যেকের মাঝে দিয়েছেন। অর্থাৎ জীবজগতে প্রত্যেকের মাঝে তার শক্তির অস্তিত্ব রয়েছে।

সকল জীবের মধ্যে মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে প্রেরণ করেছেন। কাজেই মানুষ হিসেবে আমাদের সকল জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা প্রত্যেকটি মানুষের কর্তব্য। কেননা জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। আপনি যদি একটি জীবের উপকার কিংবা কোনো দয়া করেন তাহলে সে জীবের ঈশ্বর হলেন আপনি। কারণ ঈশ্বর আপনার মধ্যে বিরাজ হয়ে তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করেছে। সেজন্য স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।

জগত সংসারের সব কিছুর স্পর্শ থেকে আল্লাহর আরাধনা করা যায়। লোকচক্ষুর আড়ালে কিংবা লোকচক্ষুর সামনে ধ্যান সাধনা করলে আল্লাহতালাকে পাওয়া যায় না। তাকে পেতে হলে তার সৃষ্টিকে ভালবাসতে হবে। স্রষ্টা মানুষকে সৃষ্টি করেছে মানবীয় গুণাবলী দিয়ে দিয়েন ও বিবেক বুদ্ধি দিয়ে। যে কারণে জীবজগতের মধ্যে মানুষেরা এবং মানুষকে আর সফল মাখলুকাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। জীবের সেবা না থাকলে শুধুমাত্র আল্লাহর সেবায় মুগ্ধ হলে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায় না। বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে জীব হত্যা মহাপাপ। কথাটা বর্তমান পৃথিবীতে অধিকতর প্রণিধানযোগ্য।

আজকে প্রাণী ও উদ্ভিদ জগত ধ্বংস করার ফলে পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে এসেছে।ক্রমশই জীবজগৎ এবং উদ্ভিদজগৎ ক্ষতি হওয়ার কারণে পৃথিবীর আয়ু কম আসতেছে এবং পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষ।যদি তারা উদ্ভিদ এবং জীবজগতকে ভালবাসত তাদের ক্ষতি না করতো তাহলে তারা আজকে বিপদের সম্মুখীন হতো না।

মন্তব্য: স্রষ্টার সৃষ্টির সকল কিছুকে প্রেমের দৃষ্টিতে দেখলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভ করা যায়। আল্লাহর সৃষ্টি জীবের প্রতি মমতা মাধ্যমে আল্লাহর মহিমা অনুভব করা সম্ভব। তাই জীবজগতকে ধ্বংস না করে তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া আমাদের প্রত্যেকেরই প্রয়োজন। তা না হলে আমরা ভবিষ্যতে ধ্বংস হয়ে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *