Tips & tricks

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট-ঢাকার গাজীপুরে অসম্ভব সুন্দর রিসোর্ট

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট-ঢাকার গাজীপুরে অসম্ভব সুন্দর রিসোর্ট

আমরা যারা শহরে থাকি। তারা সবাই চায় শহরের কর্ম ব্যস্ততা কাটিয়ে একটু শহরের বাইরে নিরিবিলি কোথাও ঘুরে আসতে। কিন্তু আমাদের 24 ঘন্টাই চলে কর্ম ব্যস্ততা। তার মধ্যে আমরা যেটুকু সময় পাই এই সময়ের মধ্যে কোথাও ঘুরে আসা সম্ভব হয়ে ওঠেনা।তাদের কথা মাথায় রেখে আজকে আমরা তাদের এমন একটি প্রকৃতির রাজ্যের খবর দেবো যেখানে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সে নিজেকে প্রকৃতির মাঝে ডুবে নিতে পারবে এবং প্রাণখুলে বুক ভরে প্রকৃতির তাজা হাওয়া নিতে পারবে। সেখানে গেলে আপনি মনে করবেন কিছুটা সময় আপনি প্রকৃতির রাজ্যে চলে গেছেন।

কি শুনে অবাক লাগছে। আজকে আমরা আলোচনা করব গাজীপুরের চিনা সুখানি গ্রামের খুব জনপ্রিয় গ্রাম্য পরিবেশে একটি অসাধারণ রিসোর্ট নক্ষত্রবারি নিয়ে। সে রিসোর্টটিতে গেলে আপনি প্রকৃতির সজীব গন্ধ পাবেন। নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট- ঢাকার  গাজীপুরে অসম্ভব সুন্দর  রিসোর্ট এর তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টের পরিবেশ

সারা রিসোর্ট জুড়ে আছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। মুলত এখানকার তরুলতাই জায়গাটিকে বেশি ইকো-ফ্রেন্ডলি করে তুলেছে। কাঁচা রাস্তা, প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা লতা-পাতায় ঘেরা ঘরবাড়ি। খড় দিয়ে বানানো ছাদ আর কুঁড়ে ঘর! সব মিলিয়ে এক গ্রাম্য পরিবেশের প্রতিফলন পাওয়া যায় এখানে।

মূলত যারা শহরের কর্মব্যস্তময় জীবন, যানজটপূর্ণ পরিবেশ, গাড়ির কালো ধোঁয়া, অশুদ্ধ বাতাস, ইত্যাদি থেকে নিজকেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় তাদের জন্যই গাজীপুরের নক্ষত্র বাড়ি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভাবে নিবিড় ও শান্তপূর্ণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে এ রিসোর্টটি। যেখানে গেলে মানুষ মিশে যায় প্রকৃতি ও মাটির সহিতে।

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টে যে সকল সুবিধা পাবেন

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টে কিভাবে যাবেন?

প্রায় পঁচিশ বিঘা জমির উপর নির্মিত এই রিসোর্টটিতে আছে অনেক বড় একটি দীঘি, কৃত্রিম ঝর্ণা, কনফারেন্স হল, সুমিংপুল। এছাড়া এখানে আছে শুটিং স্পট, লাইব্রেরি, শিশুদের জন্য খেলার জায়গা, আছে মুভি- থিয়েটার, চাইলেই ঘুরে বেড়াতে পারেন নৌকা করে পুরো দীঘি জুড়ে।

এখানে রয়েছে তিন ধরনের কটেজ বা আবাসন ব্যবস্থা

উপরে কাঠ ও বাঁশ দ্বারা নির্মিত মোট ১১ টি কটেজ। যার বারান্দায় দাড়িয়ে রাতে ঝিঝি পোকার ডাক, জোনাকির আলো, ছড়ানো টিপটিপ বাতির আলো জ্বলা-নেভা, পুকুরের পশ্চিম পাশে ব্রিটিশ আমলের বিশাল দরজা-জানালা সম্মলিত একটি ঘর রয়েছে।

 স্বচ্ছ পানির উপরের কটেজগুলোতে থাকে সর্বক্ষণ পর্যটকদের আনাগোনা।পানির উপর কটেজগুলোর প্রতিদিনের ভাড়া ১০ হাজার ৭শত ৫২ টাকা। এখানে রয়েছে মোট চল্লিশ জন কর্মচারী- কর্মকর্তাবৃন্দ। যারা সর্বক্ষণ এখানকার অতিথি সেবায় ব্যস্ত থাকেন। এ রিসোর্টের কর্মকর্তা সর্বদা অতিথিদের সব ধরনের সেবা দেওয়ার চেষ্টায় থাকেন। আগত পর্যটকটা প্রকৃতিকে  খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে পারে।

ওয়াটার বাংলোতে তিন ধরণের আবাসন আছে

  • ওয়াটার বাংলো: মূলত পানির উপর কটেজ গুলোকেই ওয়াটার বাংলো হিসেবে পরিচিত। পানির উপর থেকে দাঁড়ালে পুরো রিসোর্টটির ভিউ দেখা যায়। ওয়াটার বাংলোর ধরন ভেদে ভাড়া প্রায় ১০৭৫২ থেকে ২২৭৭০ টাকা।
  • ডিলাক্স কটেজঃ এখানে একটি বেড রুম আছে যেখানে একজন থাকা যাবে। এক রাতের ভাড়া ১০৭৫০ টাকা মাত্র।
  • প্রিমিয়াম সুইটঃ এখানে আপনি পাবেন খুব সুন্দর দুইটি বেড রুম ও একটি লিভিং রুম যেখানে একসাথে চারজন থাকা যাবে। একদিনে মোট ভাড়া লাগবে ২২৭৭০ টাকা।
  • ফ্যামিলি সুইটঃ এখানে আপনি পাবেন একাধারে দুইটি বেড রুম যেখানে একসাথে চারজন থাকা যাবে। একদিনে মোট ভাড়া লাগবে ২০২৪০ টাকা মাত্র।

হোটেল কমপ্লেক্সে আছে তিন ধরনের আবাসনঃ

  • হোটেল কমপ্লেক্সঃ ছোট-বড় কটেজ ও ওয়াটার বাংলোর পাশাপাশি রিসোর্টটিতে  মাত্র ৬৩২৫ টাকা থেকে ৮২২২ টাকার মধ্যে পাবেন নজরকারা সব ডেকোরেশন দিয়ে তৈরী থাকার জন্য হোটেল রুম। যেখানে আপনি পাবেন সকল ধরণের আধুনিকের ছোঁয়া।
  • কাপল রেগুলারঃ এখানে আছে কাপলদের জন্য একটি বেড রুম যার ভাড়া মাত্র রাত পর্যন্ত ৬৩২৫ টাকা।
  • টুইন রেগুলারঃ এখানে আছে থাকার জন্য দুইটি আলাদা বেড যার দৈনিক ভাড়া ৬৯৫৭ টাকা মাত্র।
  • ডিলাক্স কাপল রুমঃ এখানে আছে একটি মাত্র বেড যার ভাড়া সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৮২২২ টাটা মাত্র।

কনফারেন্স হল ভাড়া

  • কনফারেন্স হল প্রতি শিফট অনুযায়ী ভাড়া ৩০,০০০ টাকা। সাথে সকাল, দুপুর, রাতে নিজস্ব খাবার তো থাকছেই!
  • সিঙ্গেল টেন্ড: এখানে ২ টি সিঙ্গেল বেড ২৫০০ টাকা করে।

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টের বিনোদন ব্যবস্থা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

  1.  গেস্টের সুবিদার্থে রিসোর্টটিতে ক্যাম্প,বন,ফায়ার,কনসার্ট ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যায়।
  2. আউটডোর এর পাশাপাশি আছে ইনডোর এর খেলার ব্যবস্থা। যেমন: বোর্ড গেমস,টেবিল টেনিস,ফুটবল,পুল ইত্যাদি।
  3.  রিসোর্টে আছে সুইমিংপুল যেখানে ইচ্ছা হলেই সাঁতার কাঁটা যাবে। রয়েছে জাকুজি ।
  4. রয়েছে ব্যাডমিন্ডন খেলার জন্য বানানো কোর্ট।
  5.  আছে বই পড়ার জন্য লাইব্রেরী এবং অন্যান্য নানা সুবিধা সোহো কনফারেন্স রুম।
  6.  লেকে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা আছে। সাথে আছে লেকে মাছ ধরার সুব্যবস্থাও।
  7.  শিশুদের জন্য আছে সেখানে আলাদা খেলার জায়গা।

রিসোর্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন

০১৭৭২২২৪২৮১ ——০১৭৭২২২৪২৮২——-০১৯৭৭৩৫৬১৬৫

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টে কিভাবে যাবেন?

ঢাকার মহাখালী, বিমান বন্দর বাসস্টপ থেকে সরাসরি ময়মনসিংহ রোড এর বাসে করে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা হয়ে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট যাওয়ার বাসে করে রাজাবাড়ি বাজারে নামতে হবে। রাজাবাড়ি বাজার থেকে নেমে তার ডানে মোড় নিলে  দেড় কিলোমিটার রাস্তা এগুলেই চিনা শুখানিয়া গ্রামের বাঙালপাড়া এলাকায় গেলে খুব সহজে আপনি পৌঁছে যাবেন এই নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টটিতে।