Tips & tricks

রোজা রাখার নিয়ত-ইফতারের দোয়া ও সেহরি দোয়া রাংলায়

রোজা রাখার নিয়ত-ইফতারের দোয়া ও সেহরি দোয়া রাংলায়

এই পবিত্র মাহে রমজানে আপনাকে জানাই মোবারকবাদ। আপনারা যারা পবিত্র মাহে রমজানের রোজা রাখার নিয়ত এবং সেহরির দোয়া ও ইফতারের দোয়া জানতে চাচ্ছিলেন তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিন। আপনাদের জানার আগ্রহ দেখে আজকে আমি আপনাদের জন্য এই পোস্টটি শেয়ার করেছি। আপনারা যদি পবিত্র মাহে রমজানের সকল দোয়া সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনারা সঠিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন। এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়বেন তাহলেই পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত একটি ধারণা পেয়ে যাবেন। রোজা রাখার নিয়ত-ইফতারের দোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

পরিচ্ছেদ সমূহ

  • রোজার নিয়ত বাংলা
  • সেহরির দোয়া
  • ইফতারের দোয়া

রোজার নিয়ত বাংলা

আমাদের ইসলামে রয়েছে প্রত্যেকটি মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন স্থায়ী শারীরিক-মানসিক সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ। তার জন্য আমাদের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষকে রোজা রাখতে হবে কারণ এটি হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার হুকুম। আর আল্লাহ তাআলার হুকুম মানা সে কাজ করা ফরজ। আল্লাহ তায়ালার হুকুম অমান্যকারীকে তিনি পছন্দ করেন না।

এ রমজান বিষয়ে রোজা পালন নির্দেশ দিয়ে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে বলেছেন,

‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া (আত্মশুদ্ধি) অর্জনে করতে পার। (সূরা : বাকারা : আয়াত  : ১৮৩)।

পবিত্র মাহে রমজানের সেহরী করা আবশ্যক। পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সেহরি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন এবং যথাসময়ে ইফতার গ্রহণেরও তাগিদ করেছেন। কার জন্য এ কাজটি আমাদেরও করতে হবে।

আরো পড়ুন: অজুর দোয়া-সঠিক নিয়ত ও অজু করার সঠিক নিয়ম এবং শেষের দোয়া

সেহরির দোয়া

আরবি মাসের নবমতম মাস হচ্ছে রমজান মাস। রোজা রাখা ফরজ। এটি হচ্ছে মহান আল্লাহ তাআলার হুকুম। অতীতের পাপ থেকে নিজেকে নতুন ভাবে আবার উন্মোচন করার সুযোগ হলো রোজা রাখা। নতুনভাবে জীবন শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করে এই রমজান মাসে সারা মাস রোজা রেখে নিজেকে শুদ্ধ করে নিতে হয়।

রোজা সম্পর্কে হজরত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। (অর্থাৎ মুসলিমরা সেহরি খায় আর ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা সাহরি খায় না)।’ (মুসলিম, নাসাঈ)।

রোজা পালনে সেহরি ও ইফতারের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার রয়েছে যথেষ্ট গুরুত্ব। সেহরি খাওয়ার পর রোজা নিয়ত করা জরুরি।

রোজার নিয়ত

পবিত্র রমজান মাসে আমরা যখন সেহরি খাব তখন সেহরি করার পর রোজার নিয়ত করা জরুরি। এ রোজার নিয়ত আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনারা এই নিয়তির খুব গুরুত্ব সহকারে পড়বেন এবং তা মুখস্ত করে নিজেও পড়ে নেবেন।

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব, তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিকের মাধ্যমে ইফতার করছি।

ইফতারের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে দোয়া পড়া :

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বাণী : ‘ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৫৩)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ : ‘ (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো ‘ (আবু দাউদ, মিশকাত)।