History

সিরিয়ার সাদা মিনার মসজিদ

সিরিয়ার সাদা মিনার মসজিদ

সম্মানিত পাঠক, আজকে আমরা আপনাদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করব। বিষয়টি হচ্ছে সিরিয়ার সাদা মিনার মসজিদ। আজকে আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে। সিরিয়ার সাদা মসজিদ সিরিয়া সাদা মিনার মসজিদ ইতিহাস এবং এই মসজিদের বিস্তারিত তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আমাদের অনেকেরই মনে এই মোর্শেদকে নিয়ে অনেক কৌতুহল অনেক প্রশ্ন আছে আজকে আমরা আশাকরি আপনাদের সকল প্রশ্নের সমাধান দেয়ার চেষ্টা করব। আশা করি আপনারা এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়বেন। তাহলে আপনাদের যে সকল প্রশ্ন রয়েছে সে সকল প্রশ্নের উত্তর আশা করি পেয়ে যাবেন। তাহলে চলুন বিস্তারিত পড়া যাক।

উমাইয়া মসজিদ বা দামেস্ক গ্রেট মসজিদের কিছু কথা

উমাইয়া মসজিদ, দামেস্ক গ্রেট মসজিদ হিসেবেও পরিচিত।এই মসজিদটি দামেস্কের পুরাতন শহরে অবস্থিত। ৬৩৪ সালে আরব যুদ্ধে দামেস্ক বিজয়ের পর, জন দ্য বাপটিস্ট (খ্রিস্টান দীক্ষা দান গুরু) ইয়াহিয়া এর খ্রিস্টানদের উৎসর্গকৃত স্থানে এই মসজিদটি স্থাপিত হয়। এই স্থানটি খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয়ই ধর্মাবলম্বীদের জন্য পবিত্র ও সম্মানজনক স্থান।

টাঙ্গাইলের দর্শনীয় স্থান-বিখ্যাতো তাতের শাড়ি টাংগাইল

সিরিয়ার সাদা মিনার মসজিদ ইতিহাস

দশম শতাব্দীর পারস্য ইতিহাসবিদ ইবন-আল-ফাকিহ্‌ এর মতে, এই নির্মাণকাজে তৎকালীন ৬,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ দিনার ব্যয় হয়। পারস্য, ভারতীয়, গ্রীক এবং মরক্কোর শ্রমিকদের সমন্বয়ে প্রায় ১২,০০০ শ্রমিক এই নির্মাণকাজে নিয়োজিত হয়।৬৩৪ সালে মুসলিম আরব শাসক খালিদ-ইবন-ওয়ালিদ দামেস্ককে নতুনভাবে নির্মাণ ও অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। এই দশকের পরে, ইসলামী খিলাফত শাসন উমাইয়া রাজবংশের অধীনে আসে। তখন দামেস্ক –কে মুসলিম বিশ্বের প্রশাসনিক রাজধানী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ষষ্ঠ উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ (৭০৫-৭১৫) ৭০৬ সালে বায়জানাইথ ক্যাথেড্রাল এর পাশে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য একটি কমিশন গঠন করেন। এর পূর্বে, ক্যাথেড্রাল গির্জাটি স্থানীয় খ্রিস্টানরা ব্যবহার করত, যা এখনো ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এই গির্জাটির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মুসলমানদের জন্য প্রধান প্রার্থনা কক্ষ (মুসাল্লা) ছিল।

১০৭৮ সালে সুন্নী মুসলিম সেলজুক তার্ক এই শহরের শাসনাভার গ্রহণ করেন এবং তিনি আব্বাসিয় খেলাফতের শাসন পুনরুদ্ধার করেন। সেলজুক রাজা তুতুশ (১০৭৯-১০৯৫) ১০৬৯ সালের অগ্নিকান্ডে মসজিদের ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ ঠিক করেন। এরপর দামেস্কের সেলজুক আতাবেগ, তথিকিং (১১০৪-১১২৮), মসুলের সেলজুক আতাবেগ, শরফ আল-দীন মওদুদ (১১০৯-১১১৩) এর আমলে উমাইয়া মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

১৪৮৮ সালে মামলুক সুলতান মামলুক কাইতবাঈ –এর নামানুসারে মসজিদের কাতিবায় মিনার নির্মিত হয়।১৫১৬ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে সেলিম I মামলুক রাজপরিবারের কাছ থেকে দামেস্ক বিজয় করেন।এই ওয়াক্‌ফ স্টেটটি শহরের সর্ববৃহৎ স্টেট যেখানে ৫৯৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছিল।

উমাইয়া মসজিদের প্রধান পুনরুদ্ধার কাজ শুরু হয় ১৯২৯ সালে সিরিয়ায় ফরাসী শাসনামলে এবং ১৯৬৩ সালে সিরিয়া প্রজাতন্ত্রের সময়ে। ১১৯৮০’র দশকে ও ১৯৯০ দশকের শুরুতে, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি হাফেজ আল-আসাদ উমাইয়া মসজিদের বিনির্মাণের জন্য বিশাল পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

২০০১ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল মসজিদটি পরিদর্শন করেন, বিশেষত তিনি জন দ্য বাপটিস্ট এর সংরক্ষিত স্মৃতিচিহ্ন পরিদর্শন করেন। এই প্রথম কোন মসজিদ কোন পোপ পরিদর্শনে করেন। ২০১১ সালের ১৫ মার্চ, সিরিয়ান গৃহযুদ্ধের সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রথম আন্দোলন শুরু হয়। এই সময় উমাইয়া মসজিদ কমপ্লেক্সের বাইরে ৪০-৫০ মুসল্লী জড়ো হয়ে প্রাক-গণতন্ত্রের জন্য শ্লোগান দিতে থাকে।

সিরিয়ার সাদা মসজিদ ছবি

সিরিয়ার সাদা মসজিদ ছবি

সিরিয়ার সাদা মসজিদ ছবিসিরিয়ার সাদা মসজিদ ছবি