health tips

ভিটামিন এ এর অভাব জনিত রোগ এর লক্ষন ও এর প্রতিকার

ভিটামিন এ এর অভাব জনিত রোগ এর লক্ষন ও এর প্রতিকার,সুস্থ থাকার জন্য আমাদের শরীরে ভিটামিন এর প্রয়োজন অপরিসীম। যার ফলে আমরা প্রতিনিয়ত আমরা যে খাবার খাই সেখানে থেকেই আমাদের শরীরে ভিটামিন সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে ভেজাল খাবারের জন্য আমাদের ভিটামিনের উৎস কমে গেছে এবং আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় যে খাবারগুলো খাচ্ছি এই খাবারগুলো ভেজাল থাকার কারণে আমাদের শরীর পরিমিত পরিমাণে ভিটামিন পাচ্ছে না। যার ফলে বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ লোকজন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ভিটামিনের অভাব। ভিটামিনের অভাবে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমান সময় ও স্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে মানুষের বিভিন্ন রোগব্যাধি বেড়েই চলেছে।

যারা সুস্থ থাকতে চান তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট। আমাদের এই পোষ্টের যদি আপনি সম্পূর্ণ পড়েন তাহলে আপনি ভিটামিন এ এর উৎস এবং ভিটামিন এ জনিত রোগ এবং এর থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত একটি ধারণা পেয়ে যাবেন।

আরো পড়ুন: ১০+ টি ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার এর নাম ও উপকারিতা

ভিটামিন এ জাতিয় খাবার

প্রথমে আপনাদের জানিয়ে রাখি যে ভিটামিন এ যুক্ত খাবার গুলো কি কি। আমাদের দেশে অনেক মানুষ রয়েছে যারা প্রতিদিন ভিটামিন ই জাতীয় খাবার খাচ্ছে কিন্তু তারা জানে না যে এই খাদ্য গুলোর মধ্যে ভিটামিন এ এর উৎস আছে। আজকে আমরা সেরকম কিছু খাবারের তালিকা দেখাবো যেগুলোর মধ্যে ভিটামিন এ রয়েছে। এর ফলে আপনারা জেনে যাবেন যে কোন খাবারগুলো খেলে আপনাদের শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি গুলো পূরণ হবে।

  1. গাজর
  2. মিষ্টি আলু
  3. পালং শাক
  4. মিষ্টি কুমড়া
  5. জাম্বুরা
  6. গরুর কলিজা
  7. দুধ মাখন
  8. ডিম
  9. পাকা আম
  10. পাকা টমেটো
  • ভিটামিন এ এর অভাব জনিত রোগ এর লক্ষন

    ভিটামিন এ জাতিয় খাবার

    • ত্বকের রােগ :ভিটামিন Aর অভাবে আমাদের ত্বকের ওপরে ছােটো ছােটো গুটির সৃষ্টি হয় মুখমণ্ডলে ব্রণ দেখা দেয় ।ত্বক ব্যাং এর ত্বকের মতাে অমসৃণ হয় ।এই রােগকে ব্যাংত্বক বা ফ্রিনােডার্মা বলা হয়
    • কঙ্কালতন্ত্রের ক্ষতি : ভিটামিন Aর অভাবে আমাদের কঙ্কালতন্ত্র আক্রাণন্ত হয় । অস্থির গঠন এবং দাঁতের গঠন ঠিক মতাে হয় না, এদের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে ।
    • চোখের রােগ : ভিটামিন Aর অভাবে চোখের অক্ষিপট বা রেটিনায় অবস্থিত রড কোশ এবং কোন কোশ আক্রান্ত হয় । রেটিনায় যথাযথভাবে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না । দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয় । প্রথম দিকে ভিটামিন Aর অভাবে নিক্টালােপিয়া বা রাতকানা রােগ দেখা দেয় পরে , অর্থাৎ দীর্ঘ দিন ভিটামিন Aর অভাব ঘটলে জেরপথ্যালমিয়া এবং কেরাটোম্যালেশিয়া  রােগ দেখা দেয় ।
    • রােগ সংক্রমণ ; আবরণী কলা নষ্ট হওয়ায় দেহের রােগজীবাণুকে বাধা দেবার ক্ষমতা কমে যায় । ফলে সহজেই নানা রােগের সংক্রমণ ঘটে
    • আবরণী কলার ক্ষতি : ভিটামিন Aর অভাবে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আবরণী কলা আক্রান্ত হয় এবং ওই আবরণী কলা । ধীরে ধীরে একটি কঠিন আস্তরণে পরিণত হয় । মুখের ভিতরের গাত্রের আবরণী কলা , শ্বাসনালী , খাদ্যনালী , মূত্রনালী প্রভৃতির আবরণী কলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে । মুখের ভিতরের লালাগ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লালা নিঃসরণ বন্ধ হয়ে গেলে । মুখের ভিতরের অংশ শুকনাে হয়ে যায় , যাকে জেরােস্টোমা বলা হয়

ভিটামিন এ এর অভাব জনিত রোগ এর প্রতিকার

যদি আপনার ভিটামিন এ জনিত রোগ হয়ে থাকে তাহলে করনীয় হচ্ছে।

প্রথমে আপনাকে ভিটামিন এ জাতীয় যে খাবারগুলো রয়েছে সে খাবার গুলো প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। ভিটামিন এ জাতীয় খাবার গুলো কি যেমন কাজল এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ প্রতিদিন সবজি হিসেবে যদি গাজর খান তাহলে আপনার শরীরে ভিটামিন এ এর অভাব পূরণ হবে।

দ্বিতীয়তঃ রয়েছে মিষ্টি আলু মিষ্টি আলুর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ফাইবার যা আপনার শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

তারপর রয়েছে মিষ্টি কুমড়া মিষ্টি কুমড়ার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ নিয়মিত মিষ্টি কুমড়ার তরকারি কিংবা ভাজি করে খেলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে এবং ভিটামিন এ এর ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের ফল এবং সবজি রয়েছে যেগুলো খেলে আপনার শরীরে ভিটামিন এ এর অভাবে দূর হবে যেমন ডিম মাখন গরুর দুধ গরুর কলিজা জাম্বুরা পাকা টমেটো।